ই-জিনিয়াস সম্পর্কে

প্রেক্ষাপট:

ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তৃতি একদিকে যেমন সম্ভাবনার অপার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি অন্যদিকে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পথেও সৃষ্টি করেছে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি, এর ৬৫% মানুষের গড় বয়সসীমা ১১~২৫ বছর যারা ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের জানা-অজানা বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সাথে ভার্চুয়ালি সম্পৃক্ত হচ্ছে। ইন্টারনেট ভিত্তিক এসকল কর্মকান্ড কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মনোদৈহিক সুষম বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই প্রেক্ষিতে মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে “ই-জিনিয়াস হান্ট” কর্মসূচী ঘোষণা করেছে ই-ক্যাব ও মানবসেবা।

পরিধি:

ই-ক্যাব এর মানবসেবামূলক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এ্যাপভিত্তিক ডিজিটাল প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রোগ্রামটিতে সারাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ই-ক্যাব কর্তৃক ডেভেলপকৃত একটি মোবাইল অ্যাপ-এর মাধ্যমে প্রোগ্রামটি বাস্তবায়ন করা হবে। অ্যাপসে প্রোগ্রাম সম্পর্কিত বিস্তারিত নির্দেশিকা সন্নিবেশিত থাকবে। বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। শিক্ষার্থীগণ হতে প্রাপ্ত ক্যাটেগরি ভিত্তিক কন্টেন্ট নির্ধারিত বোর্ড কর্তৃক যাচাই-বাছাই করে সেরা কন্টেন্ট নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত কন্টেন্টসমূহের জন্য সার্টিফিকেট ও ব্যাজ প্রদান করা হবে।

প্রাথমিক তথ্য
  • কর্মসূচীর নাম: “ই-জিনিয়াস হান্ট” (English: e-GENIUS HUNT)
  • কর্মসূচীর স্লোগান: তুমি গড়বে ভবিষ্যৎ (Stand for Future)
  • কর্মসূচীর ধরণ: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ্যাপভিত্তিক ডিজিটাল প্রতিভা অন্বেষণ প্রোগ্রাম ও অনলাইন লার্নিং প্লাটফর্ম
  • কর্মসূচীর উপলক্ষ্য: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শত বর্ষ – মুজিব বর্ষ ও বিজয় দিবস
  • বাস্তবায়নের সময়: ১৬ নভেম্বর ২০২০ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২০
  • প্রথম প্রোগ্রামের কনটেন্ট এর বিষয়ঃ ১) মুজিব বর্ষ এবং ২) বিজয় দিবস
  • প্রোগ্রামের কনটেন্ট এর ধরণ: ছবি (Image) এবং ভিডিও (Video)
  • প্রোগ্রামের আইডিয়া ও কনসেপ্ট: ফারাহ দিবা জামান
  • অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট: মুঞ্জুরুল মামুন
কর্মসূচীর উদ্দেশ্য:
  • অনলাইন এবং এ্যাপস ভিত্তিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশব্যাপী স্কুল পর্যায়ে ই-জিনিয়াস শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা এবং ব্যাজ দিয়ে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা।
  • যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের অনলাইনে কনটেন্ট তৈরি এবং ই-লার্নিং আগ্রহী করে তোলা।
  • ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার রোধে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।
  • স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্রিয়েটিভ কার্যক্রমের স্বীকৃতি দেয়া এবং স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা।
  • বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে দেশ গড়ার কাজে ই-জিনিয়াস খুঁজে বের করা।
  • যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে খুব বেশী মনোযোগী তাকে সেই বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানসমৃদ্ধ ও আরো আত্মবিশ্বাসী করে তোলা।
কর্মসূচী বাস্তবায়নের ফলাফল

১। ঘরে বসে একঘেঁয়ে হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা আবার প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে।
২। তাদের মেধা বিকাশের পথ সহজ হয়ে যাবে।
৩। শিশু কিশোর শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল জ্ঞান চর্চা করার উপযোগী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি হবে।
৪। নির্বাচিত ও পুরষ্কৃত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করবে।
৫। ভবিষ্যতের জন্য কিছু ই-জিনিয়াস সৈনিক তৈরী হবে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে।
৬। শিশু কিশোরদের কাজ দেখে আরো লাখো তরুন উদ্বুদ্ধ হবে। এভাবে দেশ এগিয়ে যাবে।